বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
বাজেট থেকে ছিটকে পড়ল কালো টাকার বৈধতার পথ!
অনলাইন ডেস্ক
এবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
রোববার (২২ জুন) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঋণের ভারে জর্জরিত করতে চাই না। এ কারণে এবার কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গত ২ জুন টেলিভিশনে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৩.৬ শতাংশ, যা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ থেকে মেটানো হবে।
বাজেট বাস্তবায়ন শুরু হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। এবার বিশেষ কোনো পরিবর্তন না থাকলেও সমালোচনার মুখে অপ্রদর্শিত অর্থে ফ্ল্যাট কেনা ও নির্মাণে ছাড় বাতিল করা হয়েছে। বাজেটে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
জাতীয় সংসদ না থাকায় বাজেট নিয়ে গণপরিসরে আলোচনা তুলনামূলক কম ছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইটে নাগরিকদের মতামত জানানোর সুযোগ রেখেছিল এবং কিছু চেম্বার ও সংগঠন সরাসরি অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় করেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায়। বাকি ৫২টি বিভাগের মধ্যে কেউ বরাদ্দ হারিয়েছে, কেউ পেয়েছে পূর্বের মতোই।
সংসদ কার্যকর না থাকায় গত ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট উপস্থাপন করেন টেলিভিশনের মাধ্যমে।